ছাদ বিষয়ক


হাওয়াটা আবার চালু হলে ছাদের প্রতি মায়াটা ফিরে আসে।ছাদ ওকে সবসময় আশ্রয় দিয়েছে এমনকি যখন ও কেঁদেওছে সন্ধ্যেবেলা।কান্নাটা নাকি মেয়েলি।বহুকাল আগে ওর দাদু বলতো।কান্নার কারণটা ভুলে গেছে।তখন ছাদে শেড ছিলনা।মুষলধারে বৃষ্টিতে লতপতে জামাটা চামড়ার সাথে লেপ্টে ছিলো।নিচে নেমে জামা খুলে খালি গা হয়েছিল।খালি গায়ে শিহোরিত হওয়ার ওর আর একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল আরো কয়েক বছর পরে।দাড়ি একটু বেড়ে গেলেই তখন সেগুলোতে পাক ধরতো।অমুকের বোনটা ওরও বোনের মতন ছিল।সেই সবজে অন্ধকারে ডোবা দুপুরে কি যে হয়েছিল  ওর।কেন যে তখন অমুকের বাড়িতেও কেউ ছিলনা?সেদিনও বাড়ি ফিরে ছাদেই চলে গিয়েছিল ও।ছাদে তখন শেড লাগবে লাগবে করছে।ওরই বিয়ের তোরজোর।আজকের মতন হাওয়াটা তখনও শুরু হয়নি।ছাদে অন্যদিনের মত ও আজ একা ছিল না।অনিন্দিতাও ছিল।তবে অনেকদিনের পুরোনো নিথর প্রাণহীন দেহ নিয়ে।আশেপাশের মাথা-তুলে দাঁড়ানো ফ্ল্যাটবাড়ি থেকে সে কি কৌতুহল!পুলিশ এসে পড়বে যেকোনো সময়ে।আসুক,তবে মুল অফিসারটা যদি উত্তম উত্তম স্টাইলে কথা বলে,বেশ হবে!ও দোলনায় বসে হাওয়া খেতে খেতে ছাদটার কথা ভাবে।অনিন্দিতার শরীরের দুর্গন্ধ ওকে বিশেষ বিচলিত করে না।ও ভাবে ভাবতে থাকে ছাদটা কত মায়াবী !কিভাবে সেটা ওকে সবসময় আশ্রয় দিয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

Broken Umbrella

New friend